গার্মেন্টস শিল্প খাতের জন্য ২০২৬-২৯ মেয়াদের ৩ বছর মেয়াদী নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও জাতীয় পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৩৭ হাজার টাকা বা ৩০০ ডলার নির্ধারণের জোরালো দাবি জানিয়েছে ৩৫টি সংগঠনের জোট।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে garments শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ, গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এবং এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ এলায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। অথচ পণ্যে মূল্য সংযোজন শ্রমিকের শ্রমে হলেও মুনাফা যায় মালিকের ঘরে এবং সরকারের কোষাগারে শুল্ক জমা হলেও শ্রমিকদের ন্যায়সংগত ও মানসম্মত মজুরি নিশ্চিত হয় না, ফলে বারবার তাদের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়।

আইনগত বাধ্যবাধকতা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে সামনে রেখে এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান থাকায় ২০২৩ সালের পর আইনগতভাবে ২০২৬ সালে এসে গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা আবশ্যক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী একজন শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ৩০০০ কিলোক্যালরি তাপ উৎপাদন উপযোগী পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। চার সদস্যের একটি পরিবারের শুধু খাদ্য বাবদ মাসিক খরচ আসে প্রায় ৩৫,৫৮০ টাকা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৬৩,৬৬০ টাকা। এছাড়া চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরির সাথেও এর সামঞ্জস্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সহকারী অপারেটর বা প্রারম্ভিক পর্যায়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৩৭,১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলার নির্ধারণের পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানানো হয়। একইসাথে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, আবাসন, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা এবং ডে কেয়ার সেন্টার চালুর দাবিও জানানো হয়।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com