চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রধান বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর ফলে দেশীয় পোশাক রপ্তানির মোট হিস্যায় অপ্রচলিত বাজারের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশে।ইপিবির তথ্যে আরও দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানিতে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ এবং নিট পোশাকে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
তবে সরকারি পরিসংখ্যানে ইতিবাচক ছবি ভেসে উঠলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, আগস্ট মাসজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি বাড়ার হিসাব কিছুটা বিভ্রান্তিকর। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি বেশ কম থাকায় এবারের পরিসংখ্যানটি তুলনামূলক বেশি দেখাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বড় কারখানাগুলো নিজেদের আর্থিক ক্ষতি সামলে চড়া দামে ডিজেল ও এলপিজি কিনে উৎপাদন সচল রেখেছিল বলেই রপ্তানির প্রবাহ বজায় ছিল। তবে এটি তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক সক্ষমতার চিত্র প্রকাশ করে না।
প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবনে শুধু সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করার তাগিদ দিয়ে বিকেএমইএ নেতা বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারখানার সংখ্যা বাড়ছে কি না—সেটাই আসল বিষয়। বর্তমানে দেশে বড় কারখানাগুলো আরও বড় হলেও ছোট ও মাঝারি (এসএমই) কারখানাগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের অর্থনীতি কেবল বড় শিল্পগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টেকসই অর্থনীতির জন্য ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ অপরিহার্য।
এদিকে বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে শুধু নিট পোশাকের রপ্তানিই কমেছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং দেশীয় কারখানার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেই মূলত ইউরোপের বাজারে এমন ধস নেমেছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।


