চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় সাড়ে ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক এ বাজারে চীন ও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে বাংলাদেশের মতো তুরস্ক ও ভারতের রপ্তানিও মন্দার মুখ দেখেছে।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম আট মাসে ইইউ সার্বিকভাবে পোশাক আমদানি যে হারে কমিয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার প্রায় তিন গুণ। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ ইইউর দেশগুলোতে ১ হাজার ১৯৩ কোটি (১১.৯৩ বিলিয়ন) ইউরোর তৈরি পোশাক পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো বা ১১.৬৭ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, চীন এ সময়ে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.৩৮ শতাংশ বেশি। আর ভিয়েতনামের রপ্তানি ৪.৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে।
ইউরোস্ট্যাটের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউ মোট ৬০.২৯ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬২.৬৯ বিলিয়ন ইউরো—অর্থাৎ মোট আমদানি কমেছে ৩.৮৩ শতাংশ। পণ্য আমদানির পরিমাণ বা ওজন কমার পাশাপাশি এবার পোশাকের গড় দরও কমেছে। আগের বছর যেখানে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ছিল ১৯.৯১ ইউরো, তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯.৬৫ ইউরোতে।বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই দরপতন আরও বেশি দৃশ্যমান। প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ১৪.৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩.৭৬ ইউরোতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ রপ্তানির পরিমাণ হ্রাসের পাশাপাশি পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়াও মোট আয় কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
তবে পুরো আট মাসের চিত্র নেতিবাচক হলেও আগস্ট মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ইইউর বাজারটিতে পোশাক রপ্তানি আয় ০.৭২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় সার্বিক আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও গড় মূল্য ১.২৯ শতাংশ বাড়ায় মাসটিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র চীনেরই রপ্তানির পরিমাণ ও দর দুটিই ইতিবাচক ছিল। চীন ছাড়াও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া প্রতি কেজিতে পোশাকের গড় দর বাড়াতে পেরেছে। ভিয়েতনাম রপ্তানির পরিমাণ কমলেও পণ্যের মূল্য ১০.১১ শতাংশ বেশি পাওয়ায় মোট আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে এবং অস্বাভাবিক কম দামে পোশাক বিক্রির প্রবণতা বন্ধে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি প্রস্তাব করেন, ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লেয়ারেশন) আবেদনের সময় উৎপাদন খরচের হিসাব বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
পর্যালোচনায় যদি দেখা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে ক্রয়াদেশ নিয়েছে, তবে তাদের ইউডি ছাড়পত্র না দিলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা থামবে এবং পোশাকের নায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।


