রপ্তানিমুখী পোশাক খাত ও দেশীয় স্পিনিং শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
সংগঠনটি ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলা সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি প্রক্রিয়া চালু রাখা এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়েছে।বিটিএমএ রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের প্রাথমিক টেক্সটাইল তথা স্পিনিং খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে, যার ওপর নির্ভর করছে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান।
সুতা উৎপাদনের স্থানীয় সক্ষমতা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো গেলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। এতে যেমন কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে, তেমনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের চাপও অনেকটাই কমবে।
সংগঠনটির মতে, সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা তুলে নিয়ে প্রযোজ্য শুল্ক বা করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া কোনো নতুন শুল্ক বা আমদানি নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং এই ব্যবস্থা সুবিধার অপব্যবহার রোধ করবে, সরকারের রাজস্ব নিশ্চিত করবে এবং বাজারে দেশি-বিদেশি সুতার সমতা আনবে। ব্যাংকগুলো মূলত নন-ফান্ডেড সুবিধার আওতায় গ্যারান্টি প্রদান করায় এটি আমদানিকারকদের ব্যবসায়িক মূলধনে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলবে না।
পাশাপাশি বিটিএমএ প্রস্তাব করে, নন-বন্ডেড শিল্পে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের নিয়ম বহাল রাখা উচিত। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ধাপে ধাপে এটি ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যায় কি না—সে বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধি মেনে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।সংগঠনটির বিশ্বাস, ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা এবং স্বচ্ছ নজরদারির মাধ্যমে দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী ও পোশাক রপ্তানিকারক—উভয় খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।


