দেশে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৈরি পোশাক খাত। ১৩৪টি নিট পোশাক কারখানার ওপর পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, আগস্টের শেষভাগ থেকে প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানার রফতানি আদেশ কমে গেছে কিংবা বাতিল হয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি সংকটের কারণে ৭৮ শতাংশ কারখানা তাদের উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য হয়ে আকাশপথে বাড়তি খরচে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, আবার অনেককে ছাড় দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে সংকটের মধ্যেও যেসব কারখানা নিজস্ব বিকল্প জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে, তারা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ফোর এ ইয়ার্ন ডায়িং ও টিম গ্রুপের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সোলার প্যানেল, গ্যাস ও ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ডিজেল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তাদেরও উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবারে সরকার জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ১৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পর পোশাক মালিকদের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। কারখানা মালিকদের মতে, বাড়তি খরচের চেয়েও গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ নিয়েই তারা বেশি চিন্তিত।

রফতানি আয়ের সিংহভাগ অর্জনকারী এই খাতটিতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক জড়িত এবং দেশের জিডিপিতে এর অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলছেন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন, যা পুরো অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com