ফ্রান্সে জমকালো আয়োজনে শেষ হলো ফ্যাশন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসর ‘প্যারিস ফ্যাশন উইক ২০২৬’। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে চলা এই আসরে নিজেদের নতুন কালেকশন নিয়ে হাজির হয়েছিল বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি ফ্যাশন হাউস। তবে এবারের ফ্যাশন উইকের মূল আকর্ষণ শুধু গ্ল্যামার আর নতুন পোশাকের সমাহারই ছিল না, বরং ডিজাইনাররা তাদের কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন বর্তমান বিশ্বের চলমান অস্থিরতা ও সংকটের গল্প।

প্যারিসের মঞ্চে ২০২৬-২৭ সালের ফল-উইন্টার কালেকশন নিয়ে হাজির হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ান ডিওর, আরমানি প্রিভে, ব্যালেন্সিয়াগা ও চ্যানেলের মতো নামিদামি সব ব্র্যান্ড। আর এসব পোশাকে সেজে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছেন জেন্ডায়া, পেড্রো প্যাসকাল এবং সাবরিনা কার্পেন্টারের মতো খ্যাতনামা তারকারা।

কিছুদিন আগেই বিখ্যাত পপস্টার টেইলর সুইফট এবং ফুটবলার ট্রাভিস কেলসির বিয়ের পোশাক ডিজাইন করে ফ্যাশন জগতে হইচই ফেলে দিয়েছিল শীর্ষ ব্র্যান্ড ক্রিশ্চিয়ান ডিওর। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ডিওরের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জোনাথন অ্যান্ডারসন এবারের প্যারিস শোতে প্রদর্শন করেন চমৎকার সব গাউন ও হ্যান্ডব্যাগ।

অন্যদিকে, প্যারিস ভিত্তিক ফ্যাশন হাউস ‘চ্যানেল’ তাদের পোশাকে ফুটিয়ে তোলে রূপকথার জগৎকে। পোশাকগুলোতে ‘জ্যাক অ্যান্ড দ্য বিনস্টক’-এর মতো চিরায়ত ক্লাসিক রূপকথার গল্পের আবহ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি তাদের সেটটি সাজানো হয়েছিল রূপকথার বাগান দিয়ে।

প্যারিসের প্যালাজো আরমানির জমকালো ভেন্যুতে আরমানি প্রিভে তাদের নতুন উইন্টার কালেকশন প্রদর্শন করে। সেখানে আবছা আলোতে মডেলরা ফুটিয়ে তোলেন ডাস্কি শেডের চকচকে গাউন এবং ঢিলেঢালা সুটের সৌন্দর্য। দর্শকদের মূল আকর্ষণ ছিল আরমানি প্রিভের বোম্বার জ্যাকেট, মকমল বা ভেলভেটের সুট এবং বড় কলার যুক্ত লম্বা কোটের দিকে।

মূলত চলতি বছরের বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দা থেকে মানুষকে কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিতেই ডিজাইনাররা এবার বেছে নিয়েছিলেন রূপকথা বা ‘এস্ক্যাপিজম’-এর পথ। এরই অংশ হিসেবে ডিজাইনার এলি সাব ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত রাজকীয় মুখোশধারী নৃত্যের আদলে পুরো রানওয়ে সাজিয়েছিলেন। গ্ল্যামারের আড়ালে বৈশ্বিক সংকটের এই শৈল্পিক রূপান্তরই এবারের প্যারিস ফ্যাশন উইককে অনন্য করে তুলেছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com