EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

পলিয়েস্টার-কটন (PC) ও কটন-ভিত্তিক ব্লেন্ড (CVC) কাপড়ের ডাবল ডায়িং প্রক্রিয়া সাধারণত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। প্রচলিত পদ্ধতিতে পলিয়েস্টার অংশে ডিসপার্স ডায়িংয়ের পর রিডাকশন ক্লিয়ারিং, নিউট্রালাইজেশন, সোপিং এবং একাধিক রিন্সিং ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত কেমিক্যাল, পানি, বাষ্প, বিদ্যুৎ ও সময় ব্যয় হয়, যা উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জার্মানির Textilchemie Dr. Petry GmbH বাজারে এনেছে Perlavin SPC Conc. নামের একটি বিশেষ মাল্টি-ফাংশনাল সোপিং এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, PES/CO ব্লেন্ডের মাঝারি থেকে গাঢ় শেডে ডিসপার্স ডায়িংয়ের পর প্রচলিত রিডাকটিভ ক্লিয়ারিং ধাপ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব। ফলে ডায়িং প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে।

Perlavin SPC Conc. ব্যবহারের মাধ্যমে ডিসপার্স ডায়িংয়ের পর আলাদা রিডাকশন ক্লিয়ারিং, হাইড্রোস (Sodium Hydrosulphite), কাস্টিক সোডা (Caustic Soda) এবং পরবর্তী নিউট্রালাইজেশন ধাপের প্রয়োজন হয় না। একই সঙ্গে কটন অংশে রিঅ্যাকটিভ ডায়িং সম্পন্ন হওয়ার পর একই বাথে ৮০-৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সোপিং করা যায়। এর ফলে একাধিক প্রসেস বাথের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত হয়।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, Perlavin SPC Conc. ব্যবহারে রিডাকটিভ ক্লিয়ারিং ও পরবর্তী নিউট্রালাইজেশন ধাপ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পানি, জ্বালানি, বাষ্প ও কেমিক্যালের ব্যবহার কমে আসে। এর ফলে বর্জ্য পানির পরিমাণ ও পরিবেশ দূষণ হ্রাস পায়। একই সঙ্গে উৎপাদন সময় কমে এবং প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় সমমানের ওয়াশ ফাস্টনেস নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া মাত্র ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কার্যকর লো-টেম্পারেচার সোপিং সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

Textilchemie Dr. Petry GmbH-এর বাংলাদেশ প্রধান মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন খোকন বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে সাসটেইনেবল ও কস্ট-ইফেকটিভ উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। Perlavin SPC Conc. এমন একটি সমাধান, যা একই সঙ্গে কেমিক্যাল, পানি, জ্বালানি ও সময় সাশ্রয় করে উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।”

তিনি আরও বলেন, “উৎপাদন খরচ কমলেও কাপড়ের রঙের উজ্জ্বলতা, ফাস্টনেস এবং সামগ্রিক গুণগত মান বজায় থাকে। ফলে কম ধাপে একই মানের উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, পানি ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসারে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্পের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এমন উদ্ভাবনী সমাধান কার্যকর অবদান রাখবে।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com