EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) মানেই শুধু টেক্সটাইল সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়া নয়—এখান থেকে তৈরি হচ্ছে প্রশাসক, নীতিনির্ধারক ও বহুমাত্রিক নেতৃত্বও। সেই উদাহরণগুলোর একটি নাম জালাল মো. আশফাক। ৪১ তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়া বুটেক্সের ৪১তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষার্থী জানান তার এ যাত্রার গল্প।

ছাত্রজীবনে তিনি শুধু একাডেমিক পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বিতর্ক, খেলাধুলা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ছিলেন সমান সক্রিয়। বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাবের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন তিনি। ক্লাবটির প্রথম চ্যাম্পিয়ন ট্রফি আসে তার দলের হাত ধরেই। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বুটেক্সের ছাত্রজীবন আমার জন্য দারুণ উপভোগ্য ছিল। শিক্ষকরা সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন, সিনিয়র-জুনিয়ররা পাশে থেকেছে। বিতর্ক আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে।”

কলেজ জীবন থেকেই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বুটেক্সে এসে সেই পথ আরও বিস্তৃত হয়। বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের ডিবেট টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তিনি ও তার দল অর্জন করেন একের পর এক সাফল্য। বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে আয়োজন করা হয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন ডিবেট ফেস্ট।

বিতর্ক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জনের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ২০১৬ সালে। সেবার চুয়েটে অনুষ্ঠিত একটি টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাব। “টানা কয়েকটি টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর সেই ট্রফি জেতা ছিল আমাদের জন্য বিশাল এক অর্জন,” বলেন তিনি।

তবে প্রশাসন ক্যাডারে আসার স্বপ্ন শুরু থেকেই ছিল না তার। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় সবকিছু থমকে গেলে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন তিনি। বন্ধুবান্ধবদের বিসিএস প্রস্তুতি নিতে দেখে আগ্রহ জন্মায়। তখন একটি চাকরিতে যোগ দিলেও মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সেটি ছেড়ে পুরোপুরি প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন।

বিসিএস প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ধৈর্যের কথা। তার ভাষায়, “এটা দীর্ঘ সময়ের একটা পথ। চারপাশে যখন বন্ধুরা চাকরি করছে, তখন নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকা কঠিন। কিন্তু ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হয়।”

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনলাইন ও অফলাইন মক টেস্ট, ভাইভা এবং নিয়মিত অধ্যয়ন তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, বিতর্ক চর্চা তার বিসিএস যাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় দ্রুত চিন্তা ও উপস্থাপনার দক্ষতা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে বিশ্লেষণী চিন্তা এবং ভাইভা বোর্ডে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে বিতর্ক তাকে এগিয়ে রেখেছে।

প্রশাসন ক্যাডারকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এখানে কাজের পরিধি অনেক বড়। রুট লেভেল থেকে নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ আছে। মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।”

বর্তমান বুটেক্স শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। তিনি বলেন, “বিসিএস, উচ্চশিক্ষা বা টেক্সটাইল—যেটাই করতে চাও, তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষ থেকেই সে অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।”

জালাল মো. আশফাকের এই যাত্রা প্রমাণ করে—বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা চাইলে শুধু টেক্সটাইল শিল্পেই নয়, দেশের প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ ও নেতৃত্বের জায়গাতেও নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে।

লেখক: আলভী আহমেদ

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com