EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও এখনো শক্তিশালী কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড গড়ে উঠেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) সভাপতি ও Bangladesh Textile Mills Association-এর পরিচালক মোহা. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, “মেড ইন বাংলাদেশ” নামে দেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি না হওয়া টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বড় দুর্বলতা।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চীনের বিভিন্ন শহরে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে ৩০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব আউটলেটে পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা হবে।

খোরশেদ আলম বলেন, চীন বাংলাদেশকে ১০০টির বেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহ এখনো সীমিত। অনেক ব্যবসায়ী মনে করেন, সরাসরি চীনের বাজারে প্রবেশ করলে বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অসন্তুষ্ট হতে পারেন। ফলে তারা বিদেশি ক্রেতা হারানোর আশঙ্কায় চীনে সরাসরি রপ্তানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

তিনি জানান, আগামী জুনে চীনের কুনমিংয়ে একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশকে বিনামূল্যে স্টল দেওয়া হয়েছে। তবে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণে উদ্যোক্তাদের সাড়া খুব কম।

বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও বড় সমস্যা হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি। গত বছর বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।

তার মতে, চীনের মূল শক্তি হলো কম দামে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে দেশটি বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

চীনা বিনিয়োগ প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে চীনের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ ছিল। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী শিল্পের প্লট পেলেও বছরের পর বছর গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনবলের অভাবও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও দক্ষ ম্যানেজারের সংকট রয়েছে দেশে।

বর্তমান ব্যবসা পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, দেশে চাঁদাবাজির ধরন বদলে গেছে। কিছু ব্যক্তি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নিজেদের ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শিল্পখাতের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন খোরশেদ আলম।

তিনি জানান, বিসিসিসিআই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি চীনা কমার্শিয়াল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং দেশের পুঁজিবাজারে চীনা বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাও নিয়ে কাজ করছে।

খোরশেদ আলমের মতে, এখনই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে “মেড ইন বাংলাদেশ” ব্র্যান্ডকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করার।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com