EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হ্যামস গার্মেন্টস। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল প্রদত্ত লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে ১১০ নম্বরের মধ্যে ১০৮ নম্বর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে হ্যামস গারমেন্টস।

হ্যামস গার্মেন্টসের এই সাফল্য টেকসই উন্নয়নের এক নতুন মানদণ্ড । বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম মানের । তবে হ্যামস গার্মেন্টস এই বিশাল সংখ্যার মধ্যেও অনন্য। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে, যার শীর্ষে অবস্থান করছে হ্যামস । উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে সক্ষম ।

হ্যামস গার্মেন্টসের এই বিশ্বজয়ের পেছনে কাজ করেছে সুদূরপ্রসারী এবং সুশৃঙ্খল কর্মপরিকল্পনা। তাদের সাফল্যের মূল স্তম্ভগুলো হলো:

১. উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়:
কারখানাটিতে উচ্চ দক্ষতার এলইডি (LED) লাইটিং, স্মার্ট এনার্জি মনিটরিং এবং উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে । এছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পানি পুনঃব্যবহার প্রযুক্তির মতো আধুনিক ব্যবস্থার সমন্বয় হ্যামসকে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনে সহায়তা করেছে ।

২. উৎপাদন দর্শনের আমূল পরিবর্তন:
হ্যামস গার্মেন্টস কেবল পরিবেশবান্ধব নয় বরং তাদের পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা অনন্য। লিড সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে তারা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যে মনোযোগ না দিয়ে জ্বালানি দক্ষতা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে । হ্যামস গারমেন্টস গ্রিন কমপ্লায়েন্সকে কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে ।

৩. টেকসই শিল্প রূপান্তর:

হ্যামস গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমানের মতে, এটি কেবল একটি কারখানার জয় নয়, বরং দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতের টেকসই রূপান্তরের একটি প্রতীক । তারা প্রমাণ করেছে যে, পরিবেশ সচেতন শিল্প ব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করে ।

তিনি আরও বলেন, “ হ্যামস গারমেন্টস সাস্টেইনেবিলিটির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত দিকেও এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাবে হ্যামস গারমেন্টস। ”

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একসময় কেবল ‘সস্তা উৎপাদন’ বা ‘লো-কস্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’-এর জন্য পরিচিত ছিল । বিশেষ করে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর শিল্পের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে বৈশ্বিক প্রশ্ন উঠেছিল । হ্যামস গার্মেন্টসের এই অর্জন সেই পুরোনো নেতিবাচক ধারণাকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে ।

বিজিএমইএ-র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খানের মতে, হ্যামসের এই সাফল্য বিশ্বের কাছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে । এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।

এলডিসি উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা:

বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে । এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দায়িত্বশীল সরবরাহ ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত শক্তি হিসেবে কাজ করবে । হ্যামস গার্মেন্টস দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতের বাজারে টিকে থাকতে হলে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো এবং টেকসই হওয়াই একমাত্র পথ ।

সাধারণত মনে করা হয় পরিবেশবান্ধব কারখানা মানেই বাড়তি খরচ। কিন্তু হ্যামস গার্মেন্টস প্রমাণ করেছে যে, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহার অপারেশনাল খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় । ফলে বড় ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কার্যাদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ।

হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ১০৮ স্কোর অর্জন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্প বিপ্লবের এক নতুন অধ্যায় । এটি প্রমাণ করেছে যে, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক । হ্যামস গার্মেন্টসের এই পথচলা বাংলাদেশের অন্যান্য পোশাক কারখানার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জলবায়ু দায়বদ্ধতা পালনে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে এটাই এখন প্রত্যাশা ।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com