আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন। এরইমধ্যে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। আইটিইটি’র এবারের নির্বাচনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম সমর্থিত এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন এবং ঐক্যবদ্ধ টেক্সটাইল প্রকৌশলী পরিষদ নামে দুইটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
গেলো বুধবার (২০ মে) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান খাঁন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬টি পদের জন্য মোট ৫৩ জন বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৩ মে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন পরিষদ থেকে ২৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বড় দুইটি পদে কোন প্রার্থীই দিতে পারেনি ঐক্যবদ্ধ টেক্সটাইল প্রকৌশলী পরিষদ।
পদ দুটি হলো সিনিয়র সহ সভাপতি ও মহাসচিব। জানতে চাইলে ঐক্যবদ্ধ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আ ন ম আহমেদ উল্লাহ বলেন, “মহাসচিব পদে নিক্সন দাঁড়িয়েছে তাকে আমরা সাপোর্ট দিচ্ছি। তাই আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই পদে কোন প্রার্থী দেইনি। আর সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আমরা এত অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনার ব্যতিরেকে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। সিনিয়র সহসভাপতি পদে একজনকে চিন্তা করেছিলাম। তাঁর জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পারিবারিক সমস্যার কারণে সে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে।”
এই দুই পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন প্যানেল থেকে মহাসচিব পদে প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন ও সিনিয়র সহ সভাপতি পদে প্রকৌশলী সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিকের জয় এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, “আইটিইটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবত ভাড়া বাসায় চলছে। তাই আমাদের সবার প্রথম স্বপ্ন হচ্ছে আইটিইটি ভবন তৈরি করা। যেহেতু বর্তমান সরকারের সাথে আমাদের ভালো যোগাযোগ আছে, তাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে একটি ভালো অনুদান নিয়ে ভবনটি করতে পারব বলে বিশ্বাস করি। আর দ্বিতীয় স্বপ্নটা হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কল্যাণকর কিছু করা। যেমন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি যোগাযোগ ইত্যাদি।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আইটিইটি’র পুরোনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং সদস্যদের আইটিইটিমুখী করা। আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি কিছু গতিশীল কার্যক্রম করেছে। আইটিইটি’র ওয়েবসাইট তৈরি, দুইটি সেমিনারের আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবগুলোর সাথে কোলাব করে বড় আয়োজনে ভূমিকা রেখেছে এই কমিটি। আর আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার ছিল একটি বাধাহীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেওয়া। সেটার ধারপ্রান্তে ইতোমধ্যে আমরা পৌঁছেছি।”
ঐক্যবদ্ধ পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আ ন ম আহমেদ উল্লাহ জানান, “আইটিইটি’র শুরুর দিকে আমাদের অনেক পরিকল্পনা থাকলেও বিগত সময়ে নানা কারণে এই লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। আমিও আইটিইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে একজন। আমরা অনেক পরিশ্রম করে আইটিইটি’কে একটি পর্যায়ে নিয়ে আসছিলাম। বৈদেশিক মুদ্রার একটা বড় অংশ আসে আমাদের পোশাক শিল্প থেকে, কিন্তু আমাদের দেশে অনেক স্পিনিং, উইভিং মিল বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে বের হতে হবে এবং টেক্সটাইল সম্পর্কিত গবেষণা ইনস্টিটিউট তৈরি করতে হবে। বিসিএসে আমাদের স্বতন্ত্র ক্যাডার যুক্ত হওয়া দীর্ঘদিনের দাবি। তাই আগামীতে আমাদের সবাইকে ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষ কাজ করতে হবে।”
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান খাঁন বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক আছে এবং তা সুষ্ঠু রাখার জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা আমরা নিচ্ছি। স্থানীয় থানাকে অবহিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।” নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
লেখকঃ রাতুল সাহা


