⁠বাণিজ্য

পোশাক খাতের ধস: টানা সপ্তম মাসে রপ্তানি আয় কমলো

  মিরর ডেস্ক ৪ মার্চ ২০২৬ , ৩:০০:২০ অনলাইন সংস্করণ

টানা সপ্তম মাসের মতো ফেব্রুয়ারিতেও দেশের পণ্য রপ্তানি আয় কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে দুর্বলতার প্রভাবেই মূলত এ পতন দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কম।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম।শুধু ফেব্রুয়ারিতেই পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এ মাসে আয় হয়েছে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারিতে যা ছিল ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার

অর্থাৎ মাসওয়ারি ভিত্তিতে কমেছে ২২ দশমিক ১০ শতাংশ।উপখাতের মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি কমে ১৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১২ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার, যা কমেছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।পতনের কারণ কী?ইপিবি জানিয়েছে, সাময়িক কিছু কারণ রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দর কার্যক্রমে বিঘ্ন, জাতীয় নির্বাচন এবং বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া। কৃষিপণ্য, তুলা, পাটজাত পণ্য, নন-লেদার জুতা ও সিরামিক খাতেও প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি হয়নি।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে পোশাক খাত। পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি কমার অন্যতম কারণ। এছাড়া ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে দেরি করেছেন।ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, নির্বাচন ও ছুটির কারণে ফেব্রুয়ারিতে কার্যদিবস কম থাকায় মার্চেও উল্লেখযোগ্য ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।ইরান যুদ্ধের আশঙ্কাবাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় খাতটি ঘুরে দাঁড়াবে—এমন আশা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম বাড়তে পারে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।

এতে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাও কমতে পারে।নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেন, সুয়েজ খালের আশপাশে অস্থিরতা তৈরি হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যেতে হতে পারে। এতে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পথ বেড়ে যাবে, বাড়বে পরিবহন খরচ ও বিমা প্রিমিয়াম। এর প্রভাব পড়বে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর।তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধের কারণে কোনো রপ্তানি চালান আটকে থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

কিছু খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিসামগ্রিক পতনের মাঝেও কয়েকটি খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ওষুধ, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।দেশভিত্তিক হিসাবে চীন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে উঠে এসেছে। সেখানে রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার—প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

আরও খবর

Sponsered content