বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও টেকসই উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং আর্থিক প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়েজলি বাংলাদেশ লিমিটেড।

এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় একটি ‘ট্রেনিং দ্য ট্রেইনার্স’ (টিটিটি) প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কারখানা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা তৈরি করা এবং বিজিএমইএ-এর নির্বাচিত সদস্য কারখানাগুলোর প্রায় ৫০ হাজার তৈরি পোশাক শ্রমিককে আর্থিক সাক্ষরতা ও জীবনমুখী দক্ষতা (সফট স্কিল) বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া।

প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০টি পোশাক কারখানায় এই কার্যক্রম চালু হবে। সেখানে মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, লাইন সুপারভাইজার ও কারখানা প্রতিনিধিদের সার্টিফাইড প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা পরবর্তীতে নিজ নিজ কারখানার শ্রমিকদের মাঝে এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন। এই কর্মসূচিতে মূলত আর্থিক সচেতনতা, কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ, নেতৃত্ব, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওয়েজলি বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ নূর ইলাহী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম জামশেদ হাসান, হেড অব সেলস আজমী কবির এবং সিনিয়র ম্যানেজার অদিতি আলম।

বিজিএমইএ-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দুজা চৌধুরী, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসডিপি) সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আহমেদ জাবেদ, ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলাম (অব.), এসডিপির কো-চেয়ারম্যান জান্নাতুল বাকের খান এবং ডেপুটি সেক্রেটারি ও সেকশন হেড সায়লা আক্তার নোভা।

অনুষ্ঠানে ওয়েজলি বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ নূর ইলাহী বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের দক্ষ, সামর্থ্যবান ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিজিএমইএ-এর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষা এবং সার্বিক দক্ষতা বাড়াতে আমরা কারখানাগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করব।”

বিজিএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শিহাব উদ্দুজা চৌধুরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং পাইলট পর্যায়ে বড় কারখানার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) পোশাক কারখানাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নের মূলে রয়েছে শ্রমিকদের কল্যাণ। তাদের আর্থিক সক্ষমতা, কাজের পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।”

এই চুক্তিটি বিজিএমইএ ও ওয়েজলির যৌথ প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে, যা দেশের তৈরি পোশাক খাতে একটি দক্ষ, উৎপাদমুখী ও সামর্থ্যবান শ্রমশক্তি তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com