রাজশাহীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প এখন মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সিল্কের বাজার দখল করে নিয়েছে বিদেশি কাপড়, ভারতীয় শাড়ি ও নন-সিল্ক থ্রি-পিস। কাঁচামালের তীব্র সংকট ও উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এই শিল্প যেমন গতি হারিয়েছে, তেমনি রাজশাহী বিসিক শিল্প এলাকার ৭৬টি বেসরকারি কারখানার মধ্যে ৭০টিই ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে শুধু রেশমের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। গত কয়েক বছরে রেশম সুতা ও কাঁচামালের দাম বহুগুণ বেড়েছে। পাঁচ বছর আগে যে সুতা প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়। এর ফলে ১০ বছর আগের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার সিল্ক শাড়ি এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায়। অতিরিক্ত দামের কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা রেশম কেনা থেকে সরে আসছেন, আর শোরুম মালিকরা অস্তিত্ব রক্ষায় দোকানে নন-সিল্ক পণ্য রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০০ টন রেশম সুতার চাহিদা রয়েছে, যার বিপরীতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় মাত্র ৪০ থেকে ৪২ টন। ফলে চাহিদার সিংহভাগই আমদানিকৃত বিদেশি সুতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়া এবং সরকারি প্রণোদনার অভাবে তুঁত চাষ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। ২০১৫ সালে রাজশাহীতে ১৪৮ দশমিক ৫ একর জমিতে তুঁত চাষ হলেও ২০২৪ সালে তা কমে ১৩৭ দশমিক ৬১ একরে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর সহায়তার অভাব, রাষ্ট্রীয় কারখানা বন্ধ হওয়া এবং নিম্নমানের আমদানিকৃত সুতার প্রবেশের কারণে শিল্পটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুজ্জমান সালেহ রেজা বলেন, রেশম শিল্পকে বাঁচাতে হলে রেশম পোকার ডিম উৎপাদন থেকে শুরু করে কোকুন, সুতা, তুঁত চাষ ও বিপণন—পুরো ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত মডেলের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।তবে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের পুনর্জাগরণে কেবল সরকারের ওপর ভরসা না করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসা জরুরি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com