জ্বালানি গ্যাসের চরম সংকটে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা তিন দিন ধরে জেলার শতাধিক বস্ত্র ও ডাইং কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এবং সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রাখতে কাঠ পুড়িয়ে বয়লার চালাচ্ছেন অন্তত ৫০টি কারখানার মালিকেরা।

স্থানীয় টেক্সটাইল মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে সুতা প্রক্রিয়াজাতকারী সাইজিং মিলগুলোতে স্টিম বয়লার সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে কাঠের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি কারখানায় প্রতিদিন জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

চৌয়ালা টেক্সটাইল শিল্প মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস ছাড়া ডাইং ও সাইজিং কারখানা চালানো অসম্ভব। টানা গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিতে এ অঞ্চলের শিল্পখাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বিকল্প উপায়ে যেসব কারখানা চালু রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চার হাজার কারখানার মধ্যে ৪০০টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি গ্যাস নির্ভর। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য এসব কারখানায় ১০ থেকে ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন হলেও চলতি আগস্টের শুরু থেকেই তা কমতে থাকে। গত তিন দিনে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান মোমিন টেক্সটাইল মিলের ১০টি ইউনিটের মধ্যে ৭টিই বর্তমানে বন্ধ। প্রতিদিন ২৫ লাখ গজ কাপড় উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা এই কারখানাটিতে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ২০ হাজার গজে। এতে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যান্য মাঝারি কারখানাতেও শিফট কমিয়ে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নরসিংদী কার্যালয় জানিয়েছে, জেলায় মাসে ১৩ কোটি ঘনমিটার গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছু উন্নতির আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com