বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘন ঘন শর্ত পরিবর্তন ও অন্যায্য দাবি সামলাতে এবার নিজেরাই সমন্বিত কমপ্লায়েন্স নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই সার্বজনীন বিধিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন এবং রপ্তানি পর্যায় পর্যন্ত ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক নজরদারি থাকে। ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিপ্রতিরোধ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও শ্রম ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রগুলোতে তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে। পোশাক শিল্প মালিকদের অভিযোগ, এসব নির্দেশনার অনেক কিছুই বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এবং তা কার্যত এক ধরনের ‘খবরদারি’তে পরিণত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক হাসান জানান, ক্রেতাদের ভিন্ন ভিন্ন ও জটিল নির্দেশনায় কারখানা মালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই সংকট দূর করতেই আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি একক ও মানসম্মত নীতিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) নেতা আনোয়ার শহীদ মনে করেন, ক্রেতাদের এমন অস্থির ও অযৌক্তিক দাবির লাগাম টানতে হলে প্রথমেই তৈরি পোশাক উৎপাদকদের নিজেদের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ‘অ্যাকর্ড’ এবং ‘অ্যালায়েন্স’-এর মতো ক্রেতা জোটগুলোর মাধ্যমে কঠোর শর্ত আরোপের প্রবণতা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এসব জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ হলেও পৃথকভাবে ক্রেতা সংস্থাগুলোর লাগাতার চাপ অব্যাহত রয়েছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com