Premier Bank PLC-এর নারায়ণগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে এলসি জালিয়াতি, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনিয়ম এবং গ্রাহকদের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ২৬টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। তাদের দাবি, ব্যাংকের এসব কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর Economic Reporters Forum কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডয়েস ল্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান। এ সময় টোটাল ফ্যাশন লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহরাব বিন হাসিব ও জননী ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম পোদ্দারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা Bangladesh Bank, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের অডিট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষার আহ্বান জানান তারা। এ বিষয়ে গত ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কৃত্রিম সেলস কন্ট্রাক্ট তৈরি করেন। পরে এসব নথির ভিত্তিতে একাধিক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়, যদিও বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ হয়নি। এরপর ওই এলসির দায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে সমন্বয় দেখিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে ডলার কেনা হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতি ডলারে ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করে। এছাড়া রপ্তানি নথির বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ চলতি হিসাবে জমা দেখিয়ে পরে সেই অর্থ দিয়ে ডলার কেনা ও এলসির দায় পরিশোধ করা হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই একতরফাভাবে ফোর্সড লোন ও ডিমান্ড লোন তৈরি করে বিপুল সুদ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে Bangladesh Bank-এর বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে হিসাব সমন্বয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, বারবার পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাইলেও ব্যাংক তা সরবরাহ করেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, পুনঃতফসিল চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে এলসি ও অন্যান্য ঋণ সুবিধা বাতিলের হুমকি দেওয়া হতো। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম ও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। পরে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে পুনঃতফসিলে সম্মত হলেও তা বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ব্যাংকের চাপ ও ঋণসংক্রান্ত মানসিক উদ্বেগে দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারা গেছেন। এছাড়া এক প্রতিষ্ঠানের এমডি স্ট্রোক করে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের কোনো অস্বাভাবিক দায় ছিল না। তবে ২০২৪ সালে হঠাৎ বিপুল অঙ্কের ঋণ দেখানো হয়, যা তারা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, কারখানা বন্ধ করে দিলে ঋণ পরিশোধের পথ আরও সংকুচিত হবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে এবং দেশের রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই ব্যবসা চালু রেখে প্রকৃত দায় পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

