বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে উদ্ভাবন ও গবেষণাকে আরও গতিশীল করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ (টাই)’। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর Le Méridien Dhaka-এর বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, শিল্পখাতে উদ্ভাবনকে তথ্যনির্ভর, পরিমাপযোগ্য ও ধারাবাহিক চর্চায় রূপ দেওয়াই টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে কারখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান, Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association-এর সহ-সভাপতি ও মাইক্রোফাইবার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন Bangladesh University of Textiles-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিল্পখাতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং টেকসই অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উৎপাদন ব্যবস্থায় ইউটিলিটি অপটিমাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তাই উৎপাদনকারীদের গবেষণাভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর কার্যক্রমে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক জুলহাস উদ্দিন বলেন, টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ শিল্প গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশেষ করে নতুন উপকরণ উদ্ভাবন, রাসায়নিক ব্যবহার ও ইউটিলিটি ব্যয় কমানো এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সহযোগিতা বাড়াতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association-এর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, Bangladesh Textile Mills Association-এর মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন, Bangladesh Garment Buying House Association-এর সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং The Institution of Textile Engineers and Technologists-এর অন্তর্বর্তী কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।
অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের করপোরেট ভিডিও উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব ও টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমের সমন্বিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক আমিন।
এ সময় ‘পিআইআইসি সিজন-১’ এবং ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এর ঘোষণাও দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, এসব উদ্যোগ শিল্পখাতে উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের নির্বাহী চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার বলেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ বোর্ডের সদস্যদের পরিচয়ও তুলে ধরা হয়। পরে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং সংগঠনটির লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নেটওয়ার্কিং ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এ সময় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক টেক্সটাইল উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পচর্চার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

