মিরর ডেস্ক ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৪:০৭:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বের কলা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে কলা কেটে নেওয়ার পর বাকি থাকা মোটা ট্রাঙ্ক বা প্যসুডোস্টেম (কলার গাছের অবশিষ্ট অংশ) প্রায়শই মাঠে ফেলে দেওয়া হয় বা পোড়ানো হতো। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য শুধু অপচয় নয়, বরং পরিবেশ দূষণের জন্যও সমস্যা তৈরি করত। তবে এখন বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণার মাধ্যমে এই বর্জ্যকে মূল্যবান শিল্পকাঁচামালে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গবেষকরা দেখিয়েছেন যে কলার ট্রাঙ্কে থাকা সেলুলোজ-জাতীয় ফাইবার খুবই শক্তিশালী ও টেকসই। এই ফাইবারের মান তুলনামূলকভাবে জুট বা সিসালের মতো প্রচলিত প্রাকৃতিক আঁশের সঙ্গে সমান বা এর চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে কলার ট্রাঙ্ক থেকে তৈরি ফাইবার দিয়ে টেক্সটাইল, ঘরের কাপড়, উন্নতমানের কাগজ এবং বিভিন্ন জৈব-ভিত্তিক পণ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
কলা কেটে নেওয়ার পর প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২০০ টনের মতো ট্রাঙ্ক বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। এটি শুধু অপচয় নয়, বরং জমিতে পচে গেলে মাটির উর্বরতা কমায় এবং পরিবেশ দূষণও ঘটায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ট্রাঙ্কগুলোকে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপ
কলার ট্রাঙ্কগুলোকে প্রথমে সংগৃহীত করে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর যান্ত্রিক নির্যাস ও নিয়ন্ত্রিত শুকানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে ফাইবার আলাদা করা হয়। এই ফাইবার শুকিয়ে বিভিন্ন আকারে তৈরি করা হয় — যেমন সুতা, কাপড়, কাগজ পণ্য বা প্যাকেজিং সামগ্রী। এটি সহজে শিল্পায়িত করা যায় এবং প্রচলিত শিল্পপদ্ধতিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলা ফাইবার ব্যবহারে শুধু পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি হয় না, এটি কৃষকদের অতিরিক্ত আয় ও স্থানীয় শিল্প সম্প্রসারণেও সহায়ক। বর্জ্য ট্রাঙ্ক থেকে নতুন পণ্য তৈরি হওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণা ও শিল্প উন্নয়ন
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কলা ট্রাঙ্ক থেকে ফাইবার আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের গবেষণা চালাচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ এবং টেকসই করা সম্ভব হচ্ছে। জল ব্যবহার, ট্রাঙ্ক সংগ্রহ ও পরিবহন, এবং মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে, যাতে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কলার বর্জ্য ট্রাঙ্ককে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে টেক্সটাইল ও কাগজ শিল্পে ব্যবহারের ফলে নতুন ধরণের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী পণ্য বাজারে আসবে। এটি শুধুমাত্র শিল্প ক্ষেত্রের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
কলার ট্রাঙ্ক ব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরির উদ্যোগগুলো কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছে। বর্জ্য ট্রাঙ্ক বিক্রি করে তারা অতিরিক্ত আয় অর্জন করতে পারে। এছাড়া, ট্রাঙ্ক সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পণ্য উৎপাদনের জন্য শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে এবং কলা বর্জ্যকে মূল্যবান শিল্পকাঁচামালে রূপান্তরিত করে অর্থনীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।



