মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বিমান চলাচল ব্যাহত, দক্ষিণ এশিয়ায় আটকে আছে ফাস্ট ফ্যাশনের পোশাক চালান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তৈরি ফাস্ট ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পোশাক চালান বিমানবন্দরে আটকে আছে। ফলে ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারে পণ্য পাঠাতে বিপাকে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।

পোশাক প্রস্তুতকারকরা জানিয়েছেন, জারা মালিক প্রতিষ্ঠান ইনডিটেক্স, এইচঅ্যান্ডএম, প্রাইমার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য তৈরি পোশাকের চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ভারতের কিছু বিমানবন্দরে আটকে রয়েছে।

কারখানা মালিকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের বড় অংশ এখনো বন্ধ থাকায় এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও এতিহাদসহ বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইনস অনেক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে পোশাক পরিবহনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, তাদের কিছু পোশাক চালান বর্তমানে ঢাকার বিমানবন্দরে আটকে আছে। এসব পণ্য দুবাই হয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল ও জটিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ পোশাক পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি বিমান কার্গো মধ্যপ্রাচ্যের রুটের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের ক্ষেত্রেও প্রায় ৪১ শতাংশ কার্গো এই রুটে যায়।

এদিকে বিমান কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ভাড়া দ্রুত বেড়ে গেছে। ভারতের মুম্বাইভিত্তিক পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিরা লেদারের এক কর্মকর্তা জানান, মুম্বাই থেকে অস্ট্রিয়ায় পণ্য পাঠানোর বিমান ভাড়া ইতোমধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ এশিয়ার পোশাক রপ্তানি খাতে আরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।