ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বহুমুখী ও মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইইউর বাজারে পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) ইউরো মূল্যে আমদানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এদিকে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিকে টপকে বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে উঠে এসেছে স্পেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর গবেষণা ও উন্নয়ন সেল থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

স্পেন এখন ইইউতে পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষ বাজার হয়ে উঠেছে স্পেন।

একই সময়ে জার্মানিতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কম। বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ইইউর বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশই এসেছে স্পেনের বাজার থেকে।

অন্যান্য দেশে রপ্তানির চিত্র

স্পেনের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে:

  • নেদারল্যান্ডস: প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
  • পোল্যান্ড: রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ডের বাজারে রেকর্ড ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
  • ফ্রান্স ও অন্যান্য: ফ্রান্সে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ইইউর অন্যান্য দেশ মিলে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

ইউরোর হিসেবে ইইউর আমদানি হ্রাস

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিকেএমইএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ইইউ বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। সে হিসেবে ইউরো মূল্যে আমদানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বিশেষ করে নিট পোশাকে দরপতনের হার ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি। তবে জুলাই মাসে পৃথকভাবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

রপ্তানির বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও কারণ

বিকেএমইএর বিশ্লেষণে জানানো হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপের বাজারে ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস, অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি এবং পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রভাবের কারণে কিছু ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয়ে এ পতন ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিট পোশাকের পতন সামলে উঠানো এবং ইইউর প্রধান বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com