Advertisement

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’। রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭, ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচের মোট ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৭তম ব্যাচের ১০ জন এবং ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচের ৩০ জন করে শিক্ষার্থী সম্মাননা গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান খাঁন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন শিল্পী আক্তার, ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন লামইয়া জহির এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ আলী।

বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে এমন আয়োজনের জন্য সাংবাদিক সমিতিকে ধন্যবাদ জানান। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪৭তম ব্যাচের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিমা তাসনিম বলেন, “প্রথম বর্ষে আমার নিজেরও ফলাফল খুব বেশি ভালো ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে সিনিয়র বা শিক্ষক সবার অনুপ্রেরণায় আস্তে আস্তে নিজেকে উন্নীত করি। ভালো কিছু করার চেষ্টা ছিল এবং সেটা পেরেছি।”

ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইহান বিন সাজ্জাদ বলেন, “আজকে আমি আমার বাবাকে নিয়ে এসেছি, তিনি বসে আছেন দর্শকদের মধ্যে। তিনি আমার মাথায় হাত রেখে বলেছেন, বাবা আমি তোমার এই কৃতকর্মে এবং তোমার এই অর্জনে অনেক বেশি খুশি। আমার মনে হয়, এটা আমার জন্য যথেষ্ট।”

একই ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী শান্তা ইসলাম বলেন, “আমার প্রথম হওয়ার জার্নিটা শুরু হয় ক্লাস টু থেকে। তারপর কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, কলেজ—সব জায়গায় আমি সবসময় প্রথম ছিলাম। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে প্রথম হয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছি। কিন্তু যতবারই আমি প্রথম হয়েছি, আমার মনে হয়েছে এইবারই যেন প্রথম বারের মতো প্রথম হলাম। আমি প্রত্যেকবার অনুভূতিটা ফিল করেছি।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান খাঁন। শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিই, তখন কেবল রেজাল্ট নয়, শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিই। বিএসসি সম্পন্ন হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীকে দুই-তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ে সে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে। সেই দক্ষতার ভিত্তিতে ফলাফলে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীও ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন কৃতী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষার অবারিত সুযোগ তোমাদের সামনে রয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে তোমরা বুটেক্সের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। সহশিক্ষা কার্যক্রম ও নেতৃত্বের গুণাবলি তোমাদের আগামীর পথ আরও মসৃণ করবে। তোমাদের প্রত্যেকের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা আছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের প্রতি উৎসাহিত করবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘মুক্তির বারতা ৪.০: স্বাধীনতার প্রেরণায় মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

প্রবন্ধ, ছোটগল্প/অনুগল্প, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক টি-শার্ট ডিজাইন, হামদ-নাত/গজল/সুরা এবং গীতা পাঠ—এই পাঁচ বিভাগে বিজয়ী পাঁচজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচের প্রতিটি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সনদ এবং ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com