সরানা প্লাজা ধস-এর ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৪ এপ্রিলকে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ শাখা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের এই ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় ১,১৩৮ জন শ্রমিক নিহত, প্রায় আড়াই হাজার আহত এবং শতাধিক শ্রমিক নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বক্তাদের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক পরিবার এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
সমাবেশে আরও বলা হয়, নিহত শ্রমিকদের স্মরণে এখনো কোনো রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি কমেনি। বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড ও শিল্প দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত থাকলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি রয়ে গেছে।
বক্তারা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু এবং এর পরিমাণ বৃদ্ধি করার দাবি জানান। তাদের মতে, মালিকপক্ষের অবহেলা ও তদারকির ঘাটতির কারণে শ্রমিকদের জীবন এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সমাবেশ থেকে আরও দাবি জানানো হয়—শিল্প দুর্ঘটনার দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা, শ্রমিকদের জন্য জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং সব কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৪ সাল থেকেই ২৪ এপ্রিলকে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিপূরণ কাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

