জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক তৈরি পোশাক কারখানায় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন এক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের অভাবে অনেক কারখানার জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি শনিবার (২৯ মার্চ) জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে শ্রমিক ও মালিকরা কারখানায় ফিরলেও জ্বালানি সংকটের কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে আগে জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখা যেত। কিন্তু এখন জ্বালানি তেলের অভাবে সেই বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যকর থাকছে না।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেই জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় এক মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
সংঘাতের কারণে প্রণালির আশপাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে পড়েছে বলে জানা গেছে। উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময় অনেকেই ধারণা করেছিলেন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে এবার সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অনেক ক্রেতা নতুন ক্রয় আদেশ কমিয়ে দিচ্ছেন।
তার মতে, এতে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা দ্বৈত চাপে পড়েছেন। একদিকে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে অর্ডার কমে যাওয়ায় অর্থ প্রবাহ কমে যাচ্ছে। কিন্তু মাস শেষে শ্রমিকদের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতেই হচ্ছে।
বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে একসঙ্গে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। বিকল্প জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে দেশের অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

