আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘পথশিশুদের মেহেদি উৎসব’।
বুধবার (১৮ মার্চ) বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এর শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জুলাই কালচারাল সেন্টার, বুটেক্স’ এ মানবিক উৎসবের আয়োজন করে।
সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে সংগঠনের নারী প্রতিনিধিরা পরম মমতা ও স্নেহের সঙ্গে পথশিশুদের হাতে মেহেদির রঙিন নকশা এঁকে দেন। পাশাপাশি তাদের মাঝে চুড়ি, টিপ, আতর, চুলের ক্লিপ ও চকলেটসহ নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ আয়োজনে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। শিশুদের হাতে ‘ঈদ মোবারক’ লেখা মেহেদির নকশা এবং তাদের উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় পুরো পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শুধু জুলাই কালচারাল সেন্টারের প্রতিনিধিরাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হয়ে শিশুদের হাতে মেহেদির রঙিন নকশা আঁকেন। পাশাপাশি প্রাঙ্গণে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও উৎসাহের সঙ্গে উৎসবে অংশ নেন, যা পুরো পরিবেশকে মানবিকতা ও আনন্দে ভরে তোলে।
মেহেদি পরতে আসা এক শিশু আনন্দ প্রকাশ করে বলে, “প্রতিবার ঈদে অন্যদের হাতে মেহেদি দেখে আমারও খুব ইচ্ছা করত হাতে মেহেদি দিতে। আজ আপুরা আমার দুই হাতে সুন্দর করে নকশা এঁকে দিয়েছে। আমি খুব খুশি।”
আয়োজকরা জানান, ঈদ সবার জন্য আনন্দের হলেও সমাজের অনেক পথশিশুর জীবনে সেই আনন্দ প্রতিফলিত হয় না। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং ঈদের আনন্দে শামিল করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংগঠনের নারী সদস্য ও বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সেমন্তি তাহের অর্পি বলেন, “ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পথশিশুদের জন্য এই মেহেদি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের হাতে মেহেদি দেওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট উপহার দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারাও ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারে।”
তিনি এ উদ্যোগে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আয়োজনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংগঠনের আরেক নারী সদস্য ও একই ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আফরিন বলেন, “এই আয়োজন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়। এই শিশুদের হাতে মেহেদির রঙ ও উপহারের মাধ্যমে যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের মানবিক কাজে আরও অনুপ্রাণিত করবে। ব্যক্তিগতভাবে এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইহসানুল জামিল বলেন, “রমজান মাসজুড়ে সংগঠনটির ধারাবাহিক কার্যক্রম অত্যন্ত ইতিবাচক। ‘সুফরাতুল ইয়াতামা’র মতো উদ্যোগের পর পথশিশুদের নিয়ে এই মেহেদি উৎসবও একটি সৃজনশীল ও মানবিক প্রয়াস। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের ৪৮তম ব্যাচের সদস্য শোয়াইব আল জান্নাত বলেন, “পথশিশুরাও সমাজের অংশ, কিন্তু তারা প্রায়ই উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই আয়োজন।”

