দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল এসব প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রণোদনার অর্থ সময়মতো ও নিয়মিতভাবে ছাড় না হলে অনেক পোশাক কারখানা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে পারে। এতে শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বলেন,
বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা এবং দেশের ভেতরের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প কঠিন সময় পার করছে। অনেক কারখানা তারল্য সংকটে পড়েছে, যার ফলে শ্রমিকদের বেতন এবং বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনার হার বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন।
বিজিএমইএর প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশেষ নগদ প্রণোদনার হার বর্তমান ০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা, বিকল্প নগদ প্রণোদনা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিমের তহবিল ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিজিএমইএ নেতারা আরও জানান, অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল করলেও প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধন সরবরাহ করছে না। ফলে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগদ প্রণোদনার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো আবেদন ঝুলে থাকবে না এবং রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট কমাতে একই মাসে প্রণোদনার অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।
এ সময় কয়েকটি একীভূত ইসলামি ব্যাংকে রপ্তানি আয় ও স্থায়ী আমানত ভাঙাতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়টিও তুলে ধরে বিজিএমইএর প্রতিনিধি দল।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ তৈরি পোশাক খাতকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে এবং এই খাতের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে।

