গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে ভারতের গুজরাটের সুরাট শহরের টেক্সটাইল শিল্প বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কাজ থাকা সত্ত্বেও শহর ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।
ভারতের ‘বস্ত্র নগরী’ হিসেবে পরিচিত সুরাটের টেক্সটাইল খাত মূলত উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওডিশা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। তবে কয়েক দিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার রান্না করতে না পেরে অনাহারের ঝুঁকিতে পড়ায় তারা বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে কারখানাগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। অনেক কারখানা সপ্তাহে এক বা দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখছে। কিছু ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সুরাটের উধনা রেলস্টেশনে ভিড় করছেন নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে যাওয়ার জন্য। শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি টেক্সটাইল রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে কাপড়ের চাহিদা বাড়লে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে দামও বেড়ে যেতে পারে।
সুরাটের শ্রমিক কলোনিগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তবুও অনেকেই সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কালোবাজারে ৫ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ রুপি থেকে বেড়ে প্রায় ২,৫০০ রুপিতে উঠেছে বলে জানা গেছে।এক নারী শ্রমিক সীমা দেবী জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কাঠের চুলায় রান্না করার অনুমতি না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। জমিয়ে রাখা টাকাও শেষ হয়ে আসায় সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়াই এখন তার একমাত্র উপায়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানির ওপর ভারতের এলপিজি সরবরাহ অনেকটাই নির্ভরশীল। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও সমুদ্রপথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে এলপিজি আমদানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।এই পরিস্থিতিতে সুরাটের শিল্পপতিরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

