ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বাস সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক পোশাকশ্রমিক বাধ্য হয়ে ট্রাকের পেছনে করে ঢাকামুখী হচ্ছেন।
পোশাক কারখানার শ্রমিক সুফিয়া খাতুন, জোছনা বেগম ও সোলাইমান আলী জানান, বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী বাসগুলো শ্রমিক পরিবহনের জন্য স্ট্যান্ডে রাখা হয়েছে। তবে এসব বাসেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। গাজীপুর যেতে একজন শ্রমিককে প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এত বেশি ভাড়া দিতে না পেরে অনেকেই ট্রাকের পেছনে উঠছেন।
বগুড়ার শেরপুর এলাকা থেকেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় যেতে জনপ্রতি ৪০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ঢাকা কোচ টার্মিনাল এলাকায় বহু পোশাকশ্রমিককে ঢাকাগামী যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতির শেরপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, আঞ্চলিক সড়কের অন্তত শতাধিক বাস পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর থেকে প্রায় ৫০টি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে বাসগুলো সময়মতো ফিরে আসতে পারেনি। এ কারণে শেরপুর কোচ টার্মিনালে কয়েক হাজার শ্রমিক বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকের পেছনে না উঠতে শ্রমিকদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তবুও অনেকেই ঝুঁকি নিচ্ছেন। তিনি জানান, যেসব ট্রাকে শ্রমিক তোলা হবে, সেসব ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

