টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (PTEC) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১৭ মার্চ। ১৯১৫ সালে “পাবনা গভর্নমেন্ট উইভিং স্কুল” নামে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশের টেক্সটাইল খাতের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
পাবনা শহরে অবস্থিত পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বর্তমানে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের (বুটেক্স) অধিভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির সূচনা হয় ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ আমলে “পাবনা গভর্নমেন্ট উইভিং স্কুল” নামে। সে সময় তাঁত ও বস্ত্র প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু ছিল, যেখানে কাপড় বুনন, নকশা এবং সুতা গণনার মতো বিষয় শেখানো হতো। ১৯২১ সালের মধ্যে এখানে ১৪টি ফ্লাই-শাটল তাঁতে ২২ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিতেন।
পরবর্তীতে দেশের টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে এটি “পাবনা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট” হিসেবে দুই বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স চালু করে। এরপর ১৯৯৫ সালে তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করা হয়।
২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালুর নির্দেশ দেন। তখন এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ছিল এবং নামকরণ করা হয় পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
পরবর্তীতে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করা হয়। কলেজটি বর্তমানে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এবং ২০১৩ সাল থেকে এটি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে কলেজটিতে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং এই চারটি বিভাগে মোট ১২০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘ ঐতিহ্যের এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক টেক্সটাইল প্রকৌশলী দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে অবদান রেখে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন।

