শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়েছে এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার প্রেক্ষিতে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং কাউকে ছাঁটাই করা হবে না। এছাড়া রমজান মাসে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হবে না এবং টিফিন ও ইফতারের মানোন্নয়ন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নেওয়া অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো হলো
- শৃঙ্খল আচরণ: ফ্লোরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ বা গালিগালাজের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- ছুটি ও ওভারটাইম: ঈদ ছুটির সমন্বয় হিসেবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করানো হবে না। আইন অনুযায়ী সব শ্রমিক ওভারটাইমের আওতায় থাকবেন। এছাড়া মেডিকেল ছুটির ক্ষেত্রে ডাক্তারের অনুমতির পর ফ্লোরে না গিয়ে সিকিউরিটি গেটে ফরম জমা দিয়ে কারখানা ত্যাগ করা যাবে।
- ইউনিয়ন ও অন্যান্য সুবিধা: বর্তমান ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে আইনগতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১০ বছর চাকরির পর সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে ১৫টি বেসিক দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। চাাইল্ড কেয়ারের আসন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আগামী বছর থেকে পিকনিকের ব্যবস্থারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিচালকের স্বাক্ষর করা এই বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকদের সব দাবির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এর আগে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কারখানা উৎপাদন ব্যাহত হলেও, কর্তৃপক্ষের এই সমঝোতামূলক সিদ্ধান্তের ফলে কারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

