ক্যাম্পাস

হাদি হত্যার বিচার না হলে জুলাইয়ের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বুটেক্স শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিমত

  নাবিদ হাসান, বুটেক্স প্রতিনিধি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:৫১:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

Osman Hadi Butex

শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ৫৬ দিন পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এই হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা নয়; বরং এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চেতনা, তরুণ সমাজের নিরাপত্তা ও দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বুটেক্সের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন একজন সাহসী ও প্রতিবাদী কণ্ঠ, যিনি ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই ভূমিকার কারণেই তিনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন বলে তারা মনে করেন।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ হলেও এখনো হত্যাকারী পলাতক রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে খুনি ভারতে অবস্থান করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতি তরুণ সমাজের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশা বাড়াচ্ছে বলে বুটেক্স পরিবার মনে করে।

বুটেক্সের শিক্ষকরা বলেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

শিক্ষার্থীরাও মনে করেন, আর্থিক ক্ষতিপূরণ কখনোই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না; বরং হত্যার দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।

বুটেক্সের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিমত, ওসমান হাদির হত্যার বিচার এখন শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত গতি না এলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী কণ্ঠগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।