যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাত নানা প্রতিকূলতার মধ্যে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে এ বাজারে কঠিন সময় পার করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, পাল্টা শুল্ক, মার্কিন ভোক্তা ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে এ বাজারের এখনো প্রতিকূলতা কমেনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের চাহিদা আরও কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।
অথচ একই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৫০০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭২ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় দুই মাসে বাংলাদেশ ১২৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হারিয়েছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি এই সময়ে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমলেও, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, কম্বোডিয়া ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়াও ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে চীনের ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।
আর মাসের হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও কমেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। অথচ একই মাসে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া যথাক্রমে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং লিড টাইম (পণ্য পৌঁছানোর সময়) বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারের পোশাকে গুরুত্ব দিয়ে মার্কিন ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকেই পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা চলছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। সব মিলিয়ে ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

