বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও আধুনিক, টেকসই ও উদ্ভাবননির্ভর খাত হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের (বিবিএফ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।‘ফ্যাক্টরি নেশন থেকে ইনোভেশন নেশন—বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ২০৩০’ শীর্ষক কৌশলগত রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পোশাক শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী খাত হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্প সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে বিজিএমইএ’র পক্ষে সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং বিবিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম (শুভ), প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড ইভেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এম সাজেদুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ‘ফ্যাক্টরি নেশন’ থেকে ‘ইনোভেশন নেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং ও প্রচার কৌশল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি তরুণ উদ্ভাবকদের সম্পৃক্ত করে শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে বিজিএমইএতে একটি ইনোভেশন ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।এছাড়া শিল্পের মধ্য ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে একটি লিডারশিপ একাডেমি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণ উদ্ভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই খাতে যুক্ত করতে ইয়ুথ ফেস্ট, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কারখানার সাফল্য তুলে ধরতে বিভিন্ন নলেজ রিপোর্ট ও কেস স্টাডি প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলোর সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দুই দেশের ডিজাইনারদের নিয়ে একটি টেকসই আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কান লায়ন্সসহ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিজিএমইএ’র অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী বিবিএফ কৌশলগত ব্র্যান্ডিং পরামর্শ, জ্ঞান বিনিময় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজিএমইএ’র উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করবে। অন্যদিকে বিজিএমইএ শিল্পসংক্রান্ত তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত ও সদস্য প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা দেবে।দুই বছর মেয়াদি এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবনী পোশাক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply