জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে সরকার অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করলেও তৈরি পোশাকসহ শিল্পকারখানার কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে পোশাক খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সপ্তাহে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস চলবে। এতে দৈনিক কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৭ ঘণ্টা করা হয়েছে। শুক্র ও শনিবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
তবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। ফলে তৈরি পোশাক খাতে এই নতুন সময়সূচি ও দুই দিনের ছুটি কার্যকর হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় পোশাক কারখানাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদন ও রপ্তানি সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে অফিসের মতো একই সময়সূচি ও ছুটি অনুসরণ করা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা সীমিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় তৈরি পোশাক খাতে কর্মঘণ্টা ও ছুটির বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পৃথক নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

