1. apiislam52@gmail.com : Textile Mirror :
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রামে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৫৭ বার পড়া হয়েছে

তানভির আহামেদ ফাহাদ


জাপানের ওসাকা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাথে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) “জেএসটি সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রাম” অনুষ্ঠিত হয়েছে। গেলো ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনব্যপী বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ ও জাপানের ওসাকা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এই সাকুরা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের অত্যন্ত সমাদৃত এই আয়োজনে বুটেক্স এবং ওআইটি থেকে ১২ জন করে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দুই দেশর ২ জন করে নিয়ে ৪ জনের মোট ৬টি দল গঠন করা হয়।

এই প্রোগ্রামটির মূল আয়োজক ছিলেন ওসাকা ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির এ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওসামু শিমোমুরা এবং মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক টমোআকি হাসিমোটো। সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ মামুন কবির।

চেরি ব্লসম মূলত জাপানে সাকুরা নামে পরিচিত। প্রতিবছর মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু এই দুই সপ্তাহ গোলাপী ফুলে ছেঁয়ে যায় জাপান। অপরূপ এই সৌন্দর্য দেখতে অসংখ্য পর্যটক আসে জাপানে।২০১৪ সাল থেকে “জাপান সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এজেন্সি” এই সাকুরার নামে নামকরণ করে শুরু করে “সাকুরা সায়েন্স পোগ্রাম “। এই প্রোগ্রামের মূল আকর্ষণ দেশ বিদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংমিশ্রণ এবং নিজেদের একইরকম সমস্যার সমাধানে কাজ করা। এই প্রোগ্রামটা সাজানো হয়েছে অন্যান্য দেশের তরুণ মেধাবীদের জাপানে আমন্ত্রণ জানানো ও একটি টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করার জন্য।

জাপানের অত্যন্ত সম্মানজনক, এই আয়োজনের সাথে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে জানতে গেলে ড. কবির জানান,” আমি ওসাকা ইনস্টিটিউট টেকনোলজির সাথে যোগাযোগ করি এবং বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করে জেএসটি সাকুরা পোগ্রাম নিশ্চিত করি। কোভিড-১৯ আমাদের জন্য বড় একটি সমস্যা ছিলো। শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিলো জেএসটির অর্থায়নে আমাদের সম্পূর্ণ টিম জাপানে গিয়ে প্রোগ্রামটিতে অংশ নিবে। কিন্তু কোভিড ১৯ এর কারণে আমরা সরাসরি অংশ নিতে না পেরে আমি এবং প্রফেসর ওসামু শিমোমুরা আলোচনা করে ভার্চুয়ালি পোগ্রামটি বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করি।

দশ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের প্রথম দিন শুরু হয় সবার পরিচিতি পর্বের মধ্য দিয়ে। এরপর ২য় এবং তৃতীয়দিন ওআইটি এবং বুটেক্স প্রফেসরদের বেশ কিছু প্রানবন্ত লেকচার ছিলো। এরপর শুরু হয় মূলত টিম ওয়ার্ক। দলগত আলোচনা, জ্ঞান বিনিময় এবং সব শেষে দল হিসেবে সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া।অনেকগুলো সমস্যা নিযে আলোচনা হয় এই পোগ্রামে, যেগুলো বাংলাদেশ এবং জাপান দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্লাস্টিকের কারণে দূষণ, টেক্সটাইল ওয়েস্টেজ, বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়েও আলোচনা হয়। চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে প্রত্যেকের নিজ নিজ সেক্টরে কীভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে কাজ করা যায় তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় এবং প্রত্যেক দল থেকে প্রেজেন্টেশন তৈরী করে তা উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ দিজন ছিলো দুই দেশের সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা এবং সনদ বিতরণ।

এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ওয়েট প্রসেস ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার ও এমএসসি শিক্ষার্থী মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, “এই আয়োজনে সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো দুই দেশের কালচারাল বিনিময়,একে অপরের ভালো দিকগুলে জানতে পারা৷ বিশেষ করে জাপানিজদের সময়ানুবর্তিতা এবং কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী হওয়ার বিষয়টি আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।“ অংশগ্রহণকারী আরেকজন নাঈম মাহমুদ। তিনি বলেন, “সাকুরা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আমাদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে,আমরা নতুন অনেক কিছু জানতে পেরেছি।” অংশগ্রহণকারী হাসিবুল হাসান এবং আর্য শ্রেষ্ঠ দে জানান,”সাকুরা প্রোগ্রামের অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, আমরা অনেক বেশি আত্নবিশ্বাসী হয়েছি। আমরা এখন জানি একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণা নিয়ে কিভাবে চিন্তা করে এবং কতোটা পরিশ্রম করে। এটি আমাদের জন্য ভবিষ্যতে অনেক বেশি কার্যকর হবে।“

এই পোগ্রামের মাধ্যমে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। দুটি ফ নিজেদের ভবিষ্যত কর্মকান্ডে একে অপরের সাহচর্য প্রার্থী। তাই খুব শিগ্রই ওআইটি এবং বুটেক্সের মধ্যে মেমোরেন্ডাম অব অন্ডারস্ট্যান্ডিং তথা এমওইউ স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ Textilemirrorbd.com
Built with ❤ by Minhaz