1. apiislam52@gmail.com : Textile Mirror :
শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

মানুষকে সচেতন করাই তার নেশা

  • আপডেট : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬০৭ বার পড়া হয়েছে

আতিকুর রহমান আতিক: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক যুবক। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে নিথর দেহ। আশেপাশের মানুষ দৌঁড়ে এসেছে পড়ে থাকা যুবককে হাসপাতালে নিতে। ঘটনা শুনে পাশা থাকা পুলিশ সদস্যও ছুটে এসেছেন। খানিক দূরেই আরেক ব্যক্তি ছবি তুলছেন তার। জানা গেলো, পড়ে থাকা যুবক আসলে আহত বা নিহত নন। ফটোশ্যুট চলছে। শুরুতে অনেকের কাছে এটা বিরক্তির কারণও হতে পারে। কিন্তু এই ছবি দিয়েই মানুষকে সচেতন করেন সেই যুবক।  অসাবধানতার সাথে রাস্তা পার হতে গেলে কিংবা চালকের বেপরোয়া গতির কারণে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ছবির মাধ্যমে সেটাই তুলে আনার চেষ্টা করছিলেন সাঈদ রিমন নামের ওই যুবক।

প্রতীকী নানান ছবি ক্যামেরায় ধারণ এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে  মানুষকে সচেতন করেন তিনি। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘুরে যে কেউ অবাক হবেন। কখনো মলম পার্টির সদস্য সেজেছেন, যাত্রীদের মুখে রুমাল দিয়ে অজ্ঞান করছেন। কখনো কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা, বেঞ্চের উপর শুয়ে বিশ্রাম করছেন। কখনো রিকশাচালক,  যাত্রীর সাথে কথা-কাটাকাটি হওয়ায় যাত্রী তেড়ে এসেছে চড় মারতে। আবার কখনো’বা তাকে দেখা যাচ্ছে বেকার যুবকের ভূমিকায়। চাকরির সাক্ষাৎকার শেষে হাতে ফাইল নিয়ে বের হচ্ছেন। কপালে চিন্তার ভাজ। এমন প্রায় ৭০০ ছবি পাওয়া যাবে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে, যার বেশিরভাগই  জনসচেতনতামূলক। ছবির সাথে জুড়ে দেয়া  সচেতনতামূলক বার্তা। 

মুঠোফোনে কথা হয় সাঈদ রিমনের সাথে। পেশায় বস্ত্র প্রকৌশলী।  একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষাকতাও করছেন।  শুরুটা ২০০৯ সালের  দিকে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতনতামূলক একটা ভিডিও বানিয়েছিলেন সে’সময়। সেই ভিডিওর মূল চরিত্রে যিনি ছিলেন কিছুদিন পরই মারা যান তিনি। দুর্ভাগ্যবশত তার মৃত্যু ঘটে সড়ক দুর্ঘটনায়। এরপর থেকে রিমন এরকম সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিও কিংবা ছবি তৈরির কাজ করেন। 

সাঈদ রিমন আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর মাওনার একটি টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন। প্রায়ই তিনি রাতে অফিস করে পরদিন মাওনা থেকে ঢাকা আসতেন এসব ছবির শ্যুট করতে।কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এসব কাজের জন্য কীভাবে সময় পান জানতে চাইলে রিমন বলেন, একটু কষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মানুষকে সচেতন করতে সেই কষ্টটুকু সহ্য করতে হয়। অফিসে আসা-যাওয়ার পথে মাঝে মাঝেই তিনি বাসের মধ্যে বিভিন্ন বার্তা লিখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে যান। কৌতুহল নিয়ে যাত্রীরাও শুনে তাঁর কথা। বাংলাদেশ পুলিশও রিমনের এসব ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছে। তার এসব ছবি ব্যবহার হয়েছে সীমানার ওপারেও। 

এমন মহৎ কাজ করে রিমন পেয়েছেন অসংখ্য মানুষের ভালবাসা। পেয়েছেন সম্মাননাও। তবে মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় তাকে। তার এসব কন্টেন্টগুলো বাস্তব জীবনের সাথে একেবারে মিলে যাওয়ায় এসব ছবি ক্যামেরায় ধারণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।  চাল চোরের পরিণতি বুঝাতে একটা ছবির কাজে নিজের গলায় জুতার মালা পরে ছবি তুলছিলেন রিমন। চারপাশে কিছু মানুষকে দাঁড় করিয়ে ভিড়ও জমিয়েছেন বেশ।  কিন্তু পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই একজন এসে তার ঘাড়ের উপর বাড়ি দেন সত্যিকারের চাল চোর ভেবে। পকেটমারের চরিত্রায়ন করার সময় একবার পূর্বনির্ধারিত একজনের পকেটে হাত দিয়ে মানিব্যাগটি নিয়েছেন মাত্র। এমন সময় পাশে থেকে একটি লোক এসে তাকে ধরে ফেলেছেন আসল পকেটমার ভেবে। এসব কথা বলতে গিয়ে হাসলেন এই প্রকৌশলী। 

এই কাজগুলো ছাড়াও রিমনকে বিভিন্ন সময় দেখা যায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।  করোনা মহামারীর শুরু থেকেই প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি দুস্থদের জন্য শুকনো খাবার সরবরাহ করেছেন। লকডাউনে ছিন্নমূল মানুষের মুখে খাবার দিতে নিজ বাসায় রান্না করে সেই খাবারগুলো সরবরাহ করছেন।  কারণ অসহায় মানুষের হাঁসি মুগ্ধ করে তরুণ এই বস্ত্র প্রকৌশলীকে।

ছড়িয়ে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ Textilemirrorbd.com
Built with ❤ by Minhaz